Saturday, July 10, 2021

Ladies and Gentlemen (2021) review

Ladies and gentlemen is a Bangladeshi drama web series created by Mostofa Sarwar Farooki. It is starred by Tasnia farin, as an ordinary girl and co acted by Afzal Hossain, Maria Nur, hasan Masud, Partha barua, Chanchal Chowdhury, iresh Zaker, Mamunur Rashid. Ladies and gentlemen web series is released on 9th July, 2021 on ZEE5.
Ladies and gentlemen (2021) web series poster 

Ladies and gentlemen is a Bangladeshi drama web series created by Mostofa Sarwar Farooki. It is starred by Tasnia farin, as an ordinary girl and co acted by Afzal Hossain, Maria Nur, hasan Masud, Partha barua, Chanchal Chowdhury, iresh Zaker, Mamunur Rashid. Ladies and gentlemen web series is released on 9th July, 2021 on ZEE5.

Plot Summary:

Sabila, an ordinary girl, becomes the voice of every working woman in Bangladesh. Witness this inspiring story of a fiery girl who rises against the patriarchal society. 


মাত্রই দেখে শেষ করলাম মোস্তফা সারোয়ার ফারুকীর ওয়েবসিরিজ "লেডিস এ্যান্ড জেন্টেলম্যান

সিরিজটি খুব সেনসিটিভ বিষয় নিয়ে নির্মিত। অর্থাৎ একটা অফিসের বস (চেয়ারম্যান) দ্বারা নারী কর্মচারী মলেস্ট বা সেক্সুয়াল এসাল্টের শিকার হয় এবং সেই নির্যাতিত নারীর প্রতিবাদী হয়ে ওঠাকে কেন্দ্র করে দারুণ একটা ওয়েব সিরিজ। কিন্তু ঘটনার এক পর্যায়ে মোড় ঘুরে যায়, মার্ডার হয়, সেই সুযোগের অভাবে চরিত্রবান সভ্য মানুষটি! গল্পের মোড় ঘুরে কেমন একটা বেঘোরে হয়ে ওঠে; কে খুন করলো? কেন করলো? থ্রিলার ভাইভ কেমন দমদম করে! হয়রানির শিকার হওয়া নারী যেহেতু তথাকথিত চরিত্রবান সভ্য মানুষটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কোরে, অভিযোগ করেছিল, তাই এই হত্যার প্রথম সন্দেহের তালিকায় সে চলে আসবে এটাই স্বাভাবিক। সে কি খুনি? নাকি অন্য কেউ? কিন্তু কেন? এসব নিয়ে এগিয়েছে গল্পটি...

সিরিজটা আমার ভালো লাগার কারণ মূলত শুধু গল্প নয়। সিরিজটার বিভিন্ন অংশে অসংখ্যবার সমাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, সরাসরি প্রশ্ন নয় , সমাজের অসঙ্গতিগুলো আঙুল দিয়ে , চোখের উপরে ভাসানোর মতো অবস্থা করে। ওসব সিনে হয়তো মনে হতেই পারেই হঠাৎ , প্রশ্নগুলো বোধহয় আপনাকে করছে... সমাজের যে এত এত জটলা, মানসিক হীনমন্যতা, তাঁর ছাপ বহুবারই মেলে, এই সিরিজের বিভিন্ন সিনে। যদিও যে প্রসঙ্গে এখন আলাপ করতাছি, এইডা হয়তো সিরিজ দেখতে দেখতে কেউ খেয়ালই করবে না কিন্তু সেই সমস্ত আমার চোখে পড়েছে...
যেমন, দুই একটা যদি বলি, সেক্সুয়াল হ্যারাস হওয়া মেয়েকেই মানুষ মন্দ চোখে দেখতে শুরু করে, তাই তাঁর প্রতিবাদ করাকে সমাজ সমর্থন করবে না। 
আরেকটার কথা যদি বলি, তা হইলো, সিরিজের একটা সিনে, হ্যারাস হওয়া নারীকে প্রশ্ন করা হয়, সেক্সচুয়াল এসাল্ট হবার সময় কি ধরনের ড্রেসআপে ছিল, যে বিষয় আসলেই শ্লীলতাহানীর সাথে আমার অপ্রাসঙ্গিকই মনে হয়। যদিও এই বিষয়ডাই সমাজের চোখে প্রথম আলোচ্য বিষয়, সুতরাং বুঝতেই পারছেন, সমাজের এই অসঙ্গতিও আপনার চোখে ভাসাবে... এমন মুহুর্তে, সেই হয়রানির স্বীকার হওয়া নারীর পাশে গিয়ে, পরিবারের মানুষও লজ্জা পায়।
এসব ছাড়া তো আরও অসংখ্য দৃশ্য রয়েছে, যা আপনাকে বিবেকের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে, ইনডায়রেক্টলি প্রশ্ন করবে, আপনিও এই অসঙ্গতিপূর্ণ সমাজের একটা অংশ কিনা! আর এছাড়াও সরকারি কর্মকর্তাদের অসঙ্গতিও উঠে এসেছে।

  মোটের উপরে, সিরিজটা আমার ভালো লেগেছে।  
এক কথায় বললে, সহজ সরল দারুণ গল্পের, চমৎকার চিত্রায়ণ! 
আবারও বলি, গল্প বলে যাওয়ার সাথে সাথে পারিপার্শ্বিক অবস্থার বিস্তৃত বর্ণনা, তা চমকে দেয়। দারুণ ঢঙে গল্প বলে যাওয়াকে, আমার কাছে আমার প্রিয় রসমালাই—এর মতন লাগলো। 😁

(বিঃদ্রঃ) : গল্পের সেই 'সুযোগের অভাবে চরিত্রবান সভ্য মানুষটি' একজন দেশ নন্দিত কবি। তাই দোয়া করে আমার ফ্রেন্ডলিস্টের জননন্দিত কবিদের মাইন্ড খাইতে না করতাছি। আপনিও সিরিজটি দেখুন... দেখেন, আপনিও সুযোগের অভাবে চরিত্রবানদের একজন কিনা! 
🙂🙂🙂

A review by: Safwan Amin


"আমার ছবিতে স্ট্রং নারী চরিত্র বরাবরই থাকে। নারীবাদ বা শক্ত নারী চরিত্র নিয়ে ছবি করা এখন ফ্যাশন। এই ফ্যাশন চালু হওয়ার আগেই আমার ছবিতে দৃঢ়চেতা নারী চরিত্র এসেছে। ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’-এ তো প্রবলভাবেই ছিল। কেন আমার ছবির নারী চরিত্রগুলো দৃঢ়চেতা হয়? এর পেছনে কারণ আছে।"

"আমার জীবনে তিনজন নারীর প্রভাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ—আমার মা, বড় বোন ও আমার স্ত্রী। আমার মায়ের মতো দৃঢ়চেতা নারী কোথাও দেখিনি। নানা তাঁকে স্কুলে পাঠাননি, তিনি মামাদের বই পড়ে পড়ে পড়ালেখা শিখে নিয়েছেন। আমার বাবা প্রায়ই ব্যবসায় ধরা খেতেন। একবার খুবই বাজেভাবে ধরা খেলেন। পরিবারের সবাই মিলে তখন এক রুমের বাসায় উঠেছি, দিনে এক বেলা ভাত খেতে শুরু করলাম আমরা।"

"আমার মা কোনোদিন নাখালপাড়ার রাস্তা চিনতেন না। উনি যতবারই বাড়ির বাইরে যেতেন, একটা গাড়িতে উঠতেন। গাড়ির জানালা তখন পর্দায় ঢেকে দেওয়া হতো, যেন উনাকে কেউ না দেখে। সেই মা কোথা থেকে যেন এনজিওর লোন নিয়ে এলেন। ১৯৮৭-৮৮ সালে, যখন চারপাশের কেউ এনজিওর নামও শোনেনি, তখনকার কথা। লোনের টাকা দিয়ে বাসার ছাদে মুরগির খামার করলেন, সেই টাকা দিয়ে আমাদের পড়ালেখা করালেন।"

"আমার মা ভীষণ প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কোনো দিন হার মানেননি। মা যখন মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তে শুরু করেন, তখন ঢাকা শহরে নারীদের মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ ছিল। মহাখালীর গাউসুল আজম মসজিদে একদিন তিনি নামাজ পড়তে গেছেন, কিন্তু সেখানে নারীদের নামাজ পড়ার কোনো ব্যবস্থা নাই। তিনি আর্গুমেন্ট করে সেখানে নামাজ পড়েছেন। পরে অন্য নারীদের নিয়ে গিয়ে সেখানে নামাজ পড়তেন। এখন তো গাউসুল আজম মসজিদে শত শত নারী নামাজ পড়তে যায়।"

"আমার বড় বোন ক্লাস সেভেন-এইটে স্কুল থেকে ফিরে ছোট ভাই-বোনদের কোলে নিয়ে রান্নাবান্না করতে বসে যেতেন। কারণ মা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। আমার স্ত্রী, ক্লাস নাইনে পড়ার সময় বাবাকে হারিয়েছে। একা নিজের ক্যারিয়ার গড়েছে, পরিবার চালিয়েছে। এ রকম অনেক স্ট্রং নারী চরিত্র আমি দেখেছি। আমি দেখেছি, আমাদের পিতৃতান্ত্রিক সমাজ দৃঢ়চেতা নারীদের কী পরিমাণ ভয় পায়। তো, এই নারীরা আমার ছবিতে এসেছে বিভিন্নভাবে।"

প্রশ্ন উঠতে পারে, ‘লেডিজ অ্যান্ড জেন্টেলমেন’-এর মেয়েটা কি ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’-এর মেয়েটা? একদমই না। তার সমস্যা আলাদা, তার চ্যালেঞ্জ আলাদা। আরেকটা কথা, নারী ইস্যু নিয়ে ছবি বানালে অনেকে ভাবেন, এটা কি এনজিওর ছবি নাকি! ‘লেডিজ অ্যান্ড জেন্টেলমেন’ সিরিজকে নারীবাদী ব্র্যাকেটে ফেলার উপায়ও নেই। এখানে কোনো সাদাকালো চরিত্র নাই, অনেক গ্রে এরিয়া আছে। যে কারণে আমরা এটাকে নারীবাদী ছবি বলছি না কোথাও।

- মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী

SHARE THIS

0 comments: