Tuesday, August 14, 2018

Discussion about performance in Stage and Film _BD Films Info

মঞ্চনাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় বিষয়ে আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার আলোকে নিম্নে নিবন্ধ আলোচনা করা হলঃ  মঞ্চনাটকে অভিনয়ঃ  অভিনয়ের অর্থই হল চরিত্রের রূপায়ণ। কেউ যখন অভিনয় করে তখন সে আর ‘আমি’ থাকতে পারেনা। কোন চরিত্রের রূপায়ণ ঘটানোই অভিনয়। মঞ্চনাটকে অভিনয় এবং চলচ্চিত্রে অভিনয় এ দুটির মধ্যে বিস্তর পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। মঞ্চনাটকে অভিনেতাকে অধিক দক্ষতাসম্পন্য হতে হয়। কারণ মঞ্চনাটকে অভিনেতা বারবার অভিনয়ের সুযোগ পায় না। আরও দেখা যায়, মঞ্চনাটকে যদি কোন অভিনেতা অভিনয় করতে গিয়ে ভুল করে ফেলেন, তাহলে সঠিকভাবে অভিনয় করার জন্য পুনরায় সুযোগ পান না। তাই অভিনেতাকে হতে হয় অধিক দক্ষতাসম্পন্য এবং কৌশলী। কোন দক্ষ অভিনেতার অভিনয়ে যদি বিন্দুমাত্র ভুল হয়ে যায় তবে তিনি এমনভাবে অভিনয় করেন যে দর্শক তা বুঝতে পারেন না বা দর্শক তার ভুল ধরতে পারেন না। যেহেতু এখানে বারবার অভিনয়ের সুযোগ থাকেনা তাই অভিনেতাকে আগে থেকে হতে হয় অধিক দক্ষ অভিনয় শিল্পী। মঞ্চনাটকে দর্শক সরাসরি অভিনেতার অভিনয় পর্যবেক্ষণ করেন। তাই অভিনেতা এমনভাবে অভিনয় করেন যাতে দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করা যায়। মঞ্চনাটকে শব্দ, আলো, রং ইত্যাদি ব্যবহারের ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। এক জন অদক্ষ, নতুন অভিনেতা যিনি আগে কখনো মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেন নি তিনি শব্দ, আলো ইত্যাদির গুরুত্ব বুঝেন না। কিন্তু এক জন দক্ষ ও কৌশলী অভিনেতা এর গুরুত্ব বুঝেন। দক্ষ অভিনেতারা বিভিন্ন পরিবেশে খাপ খেতে পারেন। অভিনয়ে সামঞ্জস্য রাখতে পারেন। মঞ্চ নাটকে শব্দের ব্যবহার এবং চলচ্চিত্রে শব্দের ব্যবহারের মধ্যে অনেক পার্থক্য দেখা যায়। মঞ্চ নাটকে জোরে শব্দ করতে হয়। কারণ দর্শক মঞ্চের সামনে অবস্থান করে। অনেক দর্শক মঞ্চের অনেক পেছনে অবস্থান করে , তাদের শুনার সুবিধার্থে অভিনেতাকে জোরে শব্দ করতে হয়। যেমন- উঁচু স্বরে ডায়ালগ বলতে হয়।  আবার কিছু শব্দের মাধ্যমে দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করা যায়। অভিনেতা যার চরিত্রে অভিনয় করেন তার মতো করে অভিনয় করার চেষ্টা করেন। কখনো উচ্চস্বরে কখনো নিম্নস্বরে শব্দ করেন। এতে দর্শকের মনোযোগ আরো বেশি আকর্ষণ করতে পারেন। আলো মঞ্চ নাটকের একটি মূখ্য বিষয়। আলো ছাড়া দর্শক অভিনেতাকে দেখতে পাবেনা। মঞ্চ নাটকে আলোর ব্যবহার অতি গুরুত্বপূর্ণ। মঞ্চে একেক সময় একেক ধরণের আলো, কখনো রঙিন আলো ছড়ানো হয়। মঞ্চে কখনো অনেক গুলো অভিনেতার ওপর কখনো প্রধান চরিত্রের ওপর আলো ছড়ানো হয়। এটা ভিন্য জায়গায় ভিন্য অর্থ প্রকাশ করে।  যেমনঃ নীল রং এর আলো দুঃখভারাক্রান্ত, বেদনাময় জীবনের দৃশ্যকে প্রকাশ করে।  এভাবে কখনো লাল রং, কখনো হলুদ রং, কখনো অন্য কোন রং ব্যবহার করা হয় যা দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সাহায্য করে। মঞ্চ নাটকে অভিনেতার পোশাক এবং চলচ্চিত্রে অভিনেতার পোশাকের মধ্যে ও কিছু পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।  যেমনঃ মঞ্চ নাটকে অভিনেতাকে একই পোশাকে পুরো কাহিনীর অভিনয় করতে হয়। কখনো কখনো ধরণ পরিবর্তন করেন। মঞ্চ নাটকে অভিনেতার শব্দের সাথে কিছু যন্ত্রের শব্দ ব্যবহার করা হয়। কখনো বাঁশি, কখনো তবলা, কখনো অন্য কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। এক জন অভিনেতা সহজে চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে পারেন। কিন্তু সহজে মঞ্চ নাটকে অভিনয় করা যায়না। মঞ্চ নাটকে অভিনয় করতে হলে অধিক দক্ষ হতে হবে। আর অধিক দক্ষতাসম্পন্য হতে হলে অভিনেতাকে অনেক অনুশীলনের প্রয়োজন। অনেক সাধনার মাধ্যমে এক জন ব্যক্তি মঞ্চ নাটকে অভিনয় শিখতে পারেন। মঞ্চ নাটকে অভিনয় শিখে খুব সহজে চলচ্চিত্রে অভিনয় করা যায়। কিন্তু কেউ যদি বলে যে সে চলচ্চিত্রে অভিনয় করে মঞ্চ নাটকে অভিনয় করবে তাহলে তার জন্য মঞ্চ নাটকে অভিনয় করাটা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। তাই কোন ব্যক্তির অভিনয় শিখাটা মঞ্চ নাটকের ওপর অনেকটা নির্ভর করে।    চলচ্চিত্রে অভিনয়ঃ  চলচ্চিত্রে কোন অভিনেতার অভিনয় ভুল হলে বারবার তিনি অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে সঠিক অভিনয় করতে পারেন। এখানে দর্শক সরাসরি অভিনেতার অভিনয় দেখতে পায়না। ক্যামেরায় ধারণ করে এডিটিং এবং ডাবিং করার পর চূড়ান্তভাবে দেখার উপযোগী হলে তারপর দর্শক দেখার সুযোগ পায়। তাই অভিনয় সঠিক না হওয়া পর্যন্ত কোন অভিনেতা বারবার অভিনয় করার সুযোগ পান। চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শক সরাসরি অভিনয় দেখার সুযোগ পায়না। তাই অভিনয় দর্শকের মন জয় করবে কি না তা অভিনেতা বুঝতে পারেন না। দর্শক যখন অভিনয় দেখবে কেবল তখনই বোঝা যাবে অভিনেতার অভিনয় দর্শককে কতটা আনন্দ দিয়েছে। যে কোন অভিনেতা চাইলে চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে পারে। কারণ চলচ্চিত্রে অভিনয় অনেকটা নির্দেশকের দেখানো পথেই করতে হয়। ভুল হলে বারবার অভিনয় করার সুযোগ থাকে। কিন্তু মঞ্চ নাটকে এ ধরণের কোন সুযোগ থাকেনা। চলচ্চিত্রে ও আলো, শব্দ ইত্যাদি বেশ গুরুত্ব বহন করে। চলচ্চিত্রে কখনো জোরে, কখনো আসতে বা কখনো নীরবে আবার কখনো ইঙ্গিতের মাধ্যমে অভিনয় করা হয়। ক্ষেত্র বিশেষে একেক সময় একেক শব্দ উচ্চারিত হয়। কিন্তু চলচ্চিত্রে বেশিরভাগই মধ্যম শব্দ ব্যবহৃত হয়। কৃত্রিম শব্দ প্রয়োগ করে অভিনয়কে প্রাণবন্ত করা হয়। এভাবে চলচ্চিত্রে শব্দের ব্যবহার বেশ গুরুত্ব বহন করে। অভিনয়ের সময় কিছু শব্দ/ডায়ালগ প্রয়োগ করা হলে ও বেশিরভাগই ডাবিং এর মাধ্যমে শব্দ/ডায়ালগ প্রয়োগ করা হয় যাতে সহজে দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করা যায়। ক্যামেরার বিভিন্ন শটে বিভিন্ন শব্দ প্রয়োগ করতে হয়। কারণ চলচ্চিত্রে অভিনয়টা এক জায়গায় করার বিষয় না। চলচ্চিত্রে বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন পরিবেশে, বিভিন্ন সময়ে অভিনয় করতে হয়। কিন্তু মঞ্চে একই সময়ে, একই জায়গায় অভিনয় শেষ করতে হয়। তাই শব্দের তারতম্যটাও সুস্পষ্ট। অর্থাৎ চলচ্চিত্রে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ধরণের শব্দ প্রয়োগ করতে হয়।  চলচ্চিত্রে আলোর ব্যবহার ও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চলচ্চিত্রে কখনো প্রাকৃতিক আলো কখনো কৃত্রিম আলো ব্যবহার করা হয়। কিন্তু মঞ্চ নাটকে অভিনয় করার সময় প্রায়ই কৃত্রিম আলো ব্যবহার করা হয়। আলো ছাড়া ক্যামেরা কিছু দেখতে পায়না। আর ক্যামেরার দেখতে না পাওয়া মানে দর্শক ও দেখতে পাবেনা। অভিনয়ে তাই আলো অতি গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বিভিন্ন চলচ্চিত্রে রঙ ব্যবহার করা হয়। এটি দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য করা হয়। পোশাকের ব্যবহার চলচ্চিত্রে বেশি হয়। দেখা যায় প্রত্যেকটা শটে অভিনেতাকে আলাদা পোশাক দেওয়া হয় দর্শকের আগ্রহ সৃষ্টির জন্য। মঞ্চ নাটকে অভিনয় করে কোন অভিনেতা দক্ষভাবে চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে পারেন।    মঞ্চনাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় বিষয়ে মিল ও অমিলঃ  মঞ্চনাটক ও চলচ্চিত্র উভয় ক্ষেত্রে কিছু মিল ও কিছু অমিল খুঁজে পাওয়া যায়। অভিনয় হল সাবলীল ও সহজাত । কোন চরিত্রে অভিনয় করতেহলে প্রথমে কল্পনা করতে হবে যে চরিত্রের অভিনয় করতে হবে সে কোন কোন পরিবেশের । সে জন্য জানা দরকার চারটি নির্দিষ্ট দিক । যেমনঃ   ১। দৈহিক  ২। মনস্তাত্ত্বিক  ৩।সামাজিক  ৪। নৈতিক  অর্থাৎ চরিত্রের এ চারটি দিক সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকতে হবে।আর এ চারটি দিককে সামনে রেখে কল্পনা তৈরি করা যাবে যে চরিত্রের আচরণ, তার সার্বিক দিক কেমন। আর তখনি চরিত্রের মত কোন অভিনেতা অভিনয় করতে পারবে। সে চলচ্চিত্রে অভিনয় করুক আর মঞ্চনাটকে অভিনয় করুক। অভিনেতা যখন হুবহু চরিত্রের মত অভিনয় করতে চেষ্টা করেন এবং করেন ও তখন তাকে বলে জটিল অভিনয়। পান্ডুলিপিতে লেখা থাকে না যে চরিত্রের পারিপার্শ্বিক দিকগুলো কেমন হবে। সেটা অভিনেতাকে নিজেই ঠিক করতে হয় চরিত্রের সার্বিক আচরণ কেমন হবে। যে অভিনেতা তা তৈরি করতে পারেন তিনিই জটিল অভিনয় করতে পারেন। তাই জটিল অভিনয় অনেকটা অভিনেতার দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার ওপর ও নির্ভর করে। কারণ, অভিজ্ঞতা ছাড়া তিনি পূর্ব পরিকল্পনা তৈরি করতে পারবেন না।  অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় জটিল অভিনয়ের বড় অভাব । কাওকে অভিনয় করতে দেখি কিন্তু সেটা জটিল অভিনয় নয় । বরং সেটা সরল অভিনয়। কারণ জয়িল অভিনয়ের মধ্যে অবশ্যই উপরিউক্ত চারটি উপাদান থাকতে হবে নতুবা তা জটিল অভিনয় হবে না । এ দিকগুলো মঞ্চনাটকে এবং চলচ্চিত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ।  মঞ্চনাটক হচ্ছে জীবন্ত এবং প্রত্যক্ষ। কিন্তু চলচ্চিত্রের অভিনয় পরোক্ষ। উভয়ের উদ্দেশ্য জনগনকে প্রদর্শন করা। কন্সতানতিন স্তানিস্লাভস্কি তার ‘অভিনেতার প্রস্তুতি সমূহ’ গ্রন্থে ১০ট পদ্ধতির কথা বলেছেন যা অভিনয় সম্পর্কে জানতে পুর্ণাঙ্গ ধারণা সৃষ্টি করতে সাহায্য করবে। তার পদ্ধতিগুলো হলঃ  ১। কল্পনা  ২। মনোযোগ আকর্ষণ  ৩। পর্যবেক্ষণ  ৪। সত্য ও বিশ্বাস  ৫। আবেগীয় স্মৃতি  ৬। অভিযোজন  ৭। তাল ও লয়  ৮। দেহেরে বিনোদন  ৯। একক ও লক্ষ্য  ১০। আলাপন ইত্যাদি ।  চরিত্রের উপরিউক্ত চারটি ধাপ সম্পর্কে জানতে হলে এ দশটি পদ্ধতি অবশ্যই জানতে হবে । কারণ এ ১০ টি পদ্ধতির মাধ্যমে চরিত্রের ঐ চারটি দিক খুঁজে পাওয়া যাবে।  অভিনয় হচ্ছে একটি খেলা। আর শিশুরা হচ্ছে অভিনয়ের শিক্ষক। অভিনয় সম্পর্কে আর ও জানতে গেলে আবেগ সম্পর্কে জানতে হবে। আবেগ নকল করা যায়না । কিন্তু চরিত্রের মত অভিনয় করতে হলে অভিনেতাকে অবশ্যই চরিত্রের আবেগ কল্পনা করতে হবে। আবেগের মধ্যে যে উপাদানগুলো লক্ষনীয় তা নিম্নে দেওয়া হলঃ  ১। আনন্দ  ২। দূঃখ  ৩। ভয়  ৪। রাগ  ৫। আগ্রহ বা কৌতুহল  ৬। উত্তেজনা  ৭। বিরক্তি   ৮। বিস্ময় ইত্যাদি।  উপরিউক্ত উপাদানগুলো মানুষের আবেগকে প্রকাশ করে। আর আবেগ অভিনয় করাতে সাহায্য করে। যার যত আবেগ তার অভিনয় ও ততটা নিপূণ হয়। এ সমস্ত বিষয় মঞ্চনাটক এবং চলচ্চিত্র অভিনয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।    উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, মঞ্চনাটক ও চলচ্চিত্রের অভিনয়ের কৌশল এবং উপাদান কিছুটা আলাদা হলেও দুইটির উদ্দেশ্য মানুষকে প্রদর্শন করা।
মঞ্চনাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় বিষয়ে আলোচনা _BD Films Info


মঞ্চনাটক চলচ্চিত্রে অভিনয় বিষয়ে আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার আলোকে নিম্নে নিবন্ধ আলোচনা করা হলঃ
মঞ্চনাটকে অভিনয়ঃ
অভিনয়ের অর্থই হল চরিত্রের রূপায়ণকেউ যখন অভিনয় করে তখন সে আর ‘আমি’ থাকতে পারেনা। কোন চরিত্রের রূপায়ণ ঘটানোই অভিনয়। মঞ্চনাটকে অভিনয় এবং চলচ্চিত্রে অভিনয় এ দুটির মধ্যে বিস্তর পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। মঞ্চনাটকে অভিনেতাকে অধিক দক্ষতাসম্পন্য হতে হয়। কারণ মঞ্চনাটকে অভিনেতা বারবার অভিনয়ের সুযোগ পায় না। আরও দেখা যায়, মঞ্চনাটকে যদি কোন অভিনেতা অভিনয় করতে গিয়ে ভুল করে ফেলেন, তাহলে সঠিকভাবে অভিনয় করার জন্য পুনরায় সুযোগ পান না। তাই অভিনেতাকে হতে হয় অধিক দক্ষতাসম্পন্য এবং কৌশলী। কোন দক্ষ অভিনেতার অভিনয়ে যদি বিন্দুমাত্র ভুল হয়ে যায় তবে তিনি এমনভাবে অভিনয় করেন যে দর্শক তা বুঝতে পারেন না বা দর্শক তার ভুল ধরতে পারেন না। যেহেতু এখানে বারবার অভিনয়ের সুযোগ থাকেনা তাই অভিনেতাকে আগে থেকে হতে হয় অধিক দক্ষ অভিনয় শিল্পী। মঞ্চনাটকে দর্শক সরাসরি অভিনেতার অভিনয় পর্যবেক্ষণ করেন। তাই অভিনেতা এমনভাবে অভিনয় করেন যাতে দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করা যায়। মঞ্চনাটকে শব্দ, আলো, রং ইত্যাদি ব্যবহারের ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। এক জন অদক্ষ, নতুন অভিনেতা যিনি আগে কখনো মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেন নি তিনি শব্দ, আলো ইত্যাদির গুরুত্ব বুঝেন না। কিন্তু এক জন দক্ষ ও কৌশলী অভিনেতা এর গুরুত্ব বুঝেন। দক্ষ অভিনেতারা বিভিন্ন পরিবেশে খাপ খেতে পারেন। অভিনয়ে সামঞ্জস্য রাখতে পারেন। মঞ্চ নাটকে শব্দের ব্যবহার এবং চলচ্চিত্রে শব্দের ব্যবহারের মধ্যে অনেক পার্থক্য দেখা যায়। মঞ্চ নাটকে জোরে শব্দ করতে হয়। কারণ দর্শক মঞ্চের সামনে অবস্থান করে। অনেক দর্শক মঞ্চের অনেক পেছনে অবস্থান করে , তাদের শুনার সুবিধার্থে অভিনেতাকে জোরে শব্দ করতে হয়। যেমন- উঁচু স্বরে ডায়ালগ বলতে হয়।  আবার কিছু শব্দের মাধ্যমে দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করা যায়। অভিনেতা যার চরিত্রে অভিনয় করেন তার মতো করে অভিনয় করার চেষ্টা করেন। কখনো উচ্চস্বরে কখনো নিম্নস্বরে শব্দ করেন। এতে দর্শকের মনোযোগ আরো বেশি আকর্ষণ করতে পারেন। আলো মঞ্চ নাটকের একটি মূখ্য বিষয়। আলো ছাড়া দর্শক অভিনেতাকে দেখতে পাবেনা। মঞ্চ নাটকে আলোর ব্যবহার অতি গুরুত্বপূর্ণ। মঞ্চে একেক সময় একেক ধরণের আলো, কখনো রঙিন আলো ছড়ানো হয়। মঞ্চে কখনো অনেক গুলো অভিনেতার ওপর কখনো প্রধান চরিত্রের ওপর আলো ছড়ানো হয়। এটা ভিন্য জায়গায় ভিন্য অর্থ প্রকাশ করে।
যেমনঃ নীল রং এর আলো দুঃখভারাক্রান্ত, বেদনাময় জীবনের দৃশ্যকে প্রকাশ করে।
এভাবে কখনো লাল রং, কখনো হলুদ রং, কখনো অন্য কোন রং ব্যবহার করা হয় যা দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সাহায্য করে। মঞ্চ নাটকে অভিনেতার পোশাক এবং চলচ্চিত্রে অভিনেতার পোশাকের মধ্যে ও কিছু পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।
যেমনঃ মঞ্চ নাটকে অভিনেতাকে একই পোশাকে পুরো কাহিনীর অভিনয় করতে হয়। কখনো কখনো ধরণ পরিবর্তন করেন। মঞ্চ নাটকে অভিনেতার শব্দের সাথে কিছু যন্ত্রের শব্দ ব্যবহার করা হয়। কখনো বাঁশি, কখনো তবলা, কখনো অন্য কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। এক জন অভিনেতা সহজে চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে পারেন। কিন্তু সহজে মঞ্চ নাটকে অভিনয় করা যায়নামঞ্চ নাটকে অভিনয় করতে হলে অধিক দক্ষ হতে হবে। আর অধিক দক্ষতাসম্পন্য হতে হলে অভিনেতাকে অনেক অনুশীলনের প্রয়োজন। অনেক সাধনার মাধ্যমে এক জন ব্যক্তি মঞ্চ নাটকে অভিনয় শিখতে পারেন। মঞ্চ নাটকে অভিনয় শিখে খুব সহজে চলচ্চিত্রে অভিনয় করা যায়। কিন্তু কেউ যদি বলে যে সে চলচ্চিত্রে অভিনয় করে মঞ্চ নাটকে অভিনয় করবে তাহলে তার জন্য মঞ্চ নাটকে অভিনয় করাটা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। তাই কোন ব্যক্তির অভিনয় শিখাটা মঞ্চ নাটকের ওপর অনেকটা নির্ভর করে।

চলচ্চিত্রে অভিনয়ঃ
চলচ্চিত্রে কোন অভিনেতার অভিনয় ভুল হলে বারবার তিনি অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে সঠিক অভিনয় করতে পারেন। এখানে দর্শক সরাসরি অভিনেতার অভিনয় দেখতে পায়না। ক্যামেরায় ধারণ করে এডিটিং এবং ডাবিং করার পর চড়ান্তভাবে দেখার উপযোগী হলে তারপর দর্শক দেখার সুযোগ পায়। তাই অভিনয় সঠিক না হওয়া পর্যন্ত কোন অভিনেতা বারবার অভিনয় করার সুযোগ পান। চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শক সরাসরি অভিনয় দেখার সুযোগ পায়না। তাই অভিনয় দর্শকের মন জয় করবে কি না তা অভিনেতা বুঝতে পারেন না। দর্শক যখন অভিনয় দেখবে কেবল তখনই বোঝা যাবে অভিনেতার অভিনয় দর্শককে কতটা আনন্দ দিয়েছে। যে কোন অভিনেতা চাইলে চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে পারেকারণ চলচ্চিত্রে অভিনয় অনেকটা নির্দেশকের দেখানো পথেই করতে হয়। ভুল হলে বারবার অভিনয় করার সুযোগ থাকে। কিন্তু মঞ্চ নাটকে এ ধরণের কোন সুযোগ থাকেনা। চলচ্চিত্রে ও আলো, শব্দ ইত্যাদি বেশ গুরুত্ব বহন করে। চলচ্চিত্রে কখনো জোরে, কখনো আসতে বা কখনো নীরবে আবার কখনো ইঙ্গিতের মাধ্যমে অভিনয় করা হয়। ক্ষেত্র বিশেষে একেক সময় একেক শব্দ উচ্চারিত হয়। কিন্তু চলচ্চিত্রে বেশিরভাগই মধ্যম শব্দ ব্যবহৃত হয়। কৃত্রিম শব্দ প্রয়োগ করে অভিনয়কে প্রাণবন্ত করা হয়। এভাবে চলচ্চিত্রে শব্দের ব্যবহার বেশ গুরুত্ব বহন করে। অভিনয়ের সময় কিছু শব্দ/ডায়ালগ প্রয়োগ করা হলে ও বেশিরভাগই ডাবিং এর মাধ্যমে শব্দ/ডায়ালগ প্রয়োগ করা হয় যাতে সহজে দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করা যায়। ক্যামেরার বিভিন্ন শটে বিভিন্ন শব্দ প্রয়োগ করতে হয়। কারণ চলচ্চিত্রে অভিনয়টা এক জায়গায় করার বিষয় না। চলচ্চিত্রে বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন পরিবেশে, বিভিন্ন সময়ে অভিনয় করতে হয়। কিন্তু মঞ্চে একই সময়ে, একই জায়গায় অভিনয় শেষ করতে হয়। তাই শব্দের তারতম্যটাও সুস্পষ্ট। অর্থাৎ চলচ্চিত্রে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ধরণের শব্দ প্রয়োগ করতে হয়।
চলচ্চিত্রে আলোর ব্যবহার ও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চলচ্চিত্রে কখনো প্রাকৃতিক আলো কখনো কৃত্রিম আলো ব্যবহার করা হয়। কিন্তু মঞ্চ নাটকে অভিনয় করার সময় প্রায়ই কৃত্রিম আলো ব্যবহার করা হয়। আলো ছাড়া ক্যামেরা কিছু দেখতে পায়না। আর ক্যামেরার দেখতে না পাওয়া মানে দর্শক ও দেখতে পাবেনা। অভিনয়ে তাই আলো অতি গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বিভিন্ন চলচ্চিত্রে রঙ ব্যবহার করা হয়। এটি দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য করা হয়। পোশাকের ব্যবহার চলচ্চিত্রে বেশি হয়। দেখা যায় প্রত্যেকটা শটে অভিনেতাকে আলাদা পোশাক দেওয়া হয় দর্শকের আগ্রহ সৃষ্টির জন্য। মঞ্চ নাটকে অভিনয় করে কোন অভিনেতা দক্ষভাবে চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে পারেন।

মঞ্চনাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় বিষয়ে মিল ও অমিলঃ
মঞ্চনাটক ও চলচ্চিত্র উভয় ক্ষেত্রে কিছু মিল ও কিছু অমিল খুঁজে পাওয়া যায়। অভিনয় হল সাবলীল ও সহজাত কোন চরিত্রে অভিনয় করতেহলে প্রথমে কল্পনা করতে হবে যে চরিত্রের অভিনয় করতে হবে সে কোন কোন পরিবেশের । সে জন্য জানা দরকার চারটি নির্দিষ্ট দিক । যেমনঃ 
১। দৈহিক
২। মনস্তাত্ত্বিক
৩।সামাজিক
৪। নৈতিক
অর্থাৎ চরিত্রের এ চারটি দিক সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকতে হবেআর এ চারটি দিককে সামনে রেখে কল্পনা তৈরি করা যাবে যে চরিত্রের আচরণ, তার সার্বিক দিক কেমন। আর তখনি চরিত্রের মত কোন অভিনেতা অভিনয় করতে পারবে। সে চলচ্চিত্রে অভিনয় করুক আর মঞ্চনাটকে অভিনয় করুক। অভিনেতা যখন হুবহু চরিত্রের মত অভিনয় করতে চেষ্টা করেন এবং করেন ও তখন তাকে বলে জটিল অভিনয়। পান্ডুলিপিতে লেখা থাকে না যে চরিত্রের পারিপার্শ্বিক দিকগুলো কেমন হবে। সেটা অভিনেতাকে নিজেই ঠিক করতে হয় চরিত্রের সার্বিক আচরণ কেমন হবে। যে অভিনেতা তা তৈরি করতে পারেন তিনিই জটিল অভিনয় করতে পারেন। তাই জটিল অভিনয় অনেকটা অভিনেতার দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার ওপর ও নির্ভর করে। কারণ, অভিজ্ঞতা ছাড়া তিনি পূর্ব পরিকল্পনা তৈরি করতে পারবেন না।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় জটিল অভিনয়ের বড় অভাব । কাওকে অভিনয় করতে দেখি কিন্তু সেটা জটিল অভিনয় নয় বরং সেটা সরল অভিনয়। কারণ জয়িল অভিনয়ের মধ্যে অবশ্যই উপরিউক্ত চারটি উপাদান থাকতে হবে নতুবা তা জটিল অভিনয় হবে না । এ দিকগুলো মঞ্চনাটকে এবং চলচ্চিত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
মঞ্চনাটক হচ্ছে জীবন্ত এবং প্রত্যক্ষ। কিন্তু চলচ্চিত্রের অভিনয় পরোক্ষ। উভয়ের উদ্দেশ্য জনগনকে প্রদর্শন করা। কন্সতানতিন স্তানিস্লাভস্কি তার ‘অভিনেতার প্রস্তুতি সমূহ’ গ্রন্থে ১০ট পদ্ধতির কথা বলেছেন যা অভিনয় সম্পর্কে জানতে পুরণাঙ্গ ধারণা সৃষ্টি করতে সাহায্য করবে। তার পদ্ধতিগুলো হলঃ
১। কল্পনা
২। মনোযোগ আকর্ষণ
৩। পর্যবেক্ষণ
৪। সত্য ও বিশ্বাস
৫। আবেগীয় স্মৃতি
৬। অভিযোজন
৭। তাল ও লয়
৮। দেহেরে বিনোদন
৯। একক ও লক্ষ্য
১০। আলাপন ইত্যাদি ।
চরিত্রের উপরিউক্ত চারটি ধাপ সম্পর্কে জানতে হলে এ দশটি পদ্ধতি অবশ্যই জানতে হবে । কারণ এ ১০ টি পদ্ধতির মাধ্যমে চরিত্রের ঐ চারটি দিক খুঁজে পাওয়া যাবে।
অভিনয় হচ্ছে একটি খেলা। আর শিশুরা হচ্ছে অভিনয়ের শিক্ষক। অভিনয় সম্পর্কে আর ও জানতে গেলে আবেগ সম্পর্কে জানতে হবে। আবেগ নকল করা যায়না । কিন্তু চরিত্রের মত অভিনয় করতে হলে অভিনেতাকে অবশ্যই চরিত্রের আবেগ কল্পনা করতে হবে। আবেগের মধ্যে যে উপাদানগুলো লক্ষনীয় তা নিম্নে দেওয়া হলঃ
১। আনন্দ
২। দূঃখ
৩। ভয়
৪। রাগ
৫। আগ্রহ বা কৌতুহল
৬। উত্তেজনা
৭। বিরক্তি 
৮। বিস্ময় ইত্যাদি।
উপরিউক্ত উপাদানগুলো মানুষের আবেগকে প্রকাশ করে। আর আবেগ অভিনয় করাতে সাহায্য করে। যার যত আবেগ তার অভিনয় ও ততটা নিপূণ হয়। এ সমস্ত বিষয় মঞ্চনাটক এবং চলচ্চিত্র অভিনয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, মঞ্চনাটক ও চলচ্চিত্রের অভিনয়ের কৌশল এবং উপাদান কিছুটা আলাদা হলেও দুইটির উদ্দেশ্য মানুষকে প্রদর্শন করা।


SHARE THIS

0 comments:

Write a comment